আপনার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথম কাজটিই হলো ভাইরাস মেরে ফেলা। ভাইরাস মারার পরেও অনেক কাজ থেকে যায়। আপনার এন্টিভাইরাসটি যদি কোনো ক্ষতির পূর্বেই ভাইরাস ধরে ফেলে তবে আপনি নিশ্চিন্ত কিন্তু যদি দেরী হয়ে যায় তবে আপনার জন্য বেশ ঝামেলাই অপেক্ষা করছে।
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুনঃ
আপনি সাধারণত আপনার কম্পিউটার দিয়ে আপনার মেইল একাউন্ট, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক একাউন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ওয়েব সাইট এবং আরও অনেক গুরুত্বপুর্ণ সাইটগুলোতে লগ ইন করে থাকেন। যখন আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তখনই উচিত আপনার এই সাইটগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলা, নয়ত দেখা যাবে ভাইরাসগুলো বিভিন্ন থার্ডপার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনার অজান্তেই সমস্ত একাউন্টের পাসওয়ার্ড অটো পরিবর্তন করে ফেলবে।
একাজটি করার জন্য প্রয়োজনে অন্য যেকোনো ভালো কম্পিউটার (যেটা ভাইরাস মুক্ত) দিয়ে আপনার একাউন্টগুলোতে ঢুকে পাস পরিবর্তন করে ফেলুন। এছাড়াও আপনি আপনার একাউন্টের নিরাপত্তার জন্যই কঠিন এবং ইউনিক পাসওয়ার্ড সিলেক্ট করে দেবেন। প্রয়োজনে মোবাইল ভেরিফিকেশন পাসওয়ার্ড চালু করবেন। এবং ক্রোম অথবা ফায়ারফক্স ব্রাউজারের জন্য LastPass শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন।
ভালোভাবে নিশ্চিত হোন যে ভাইরাসটি আসলেই দূর হয়েছেঃ
avast-rescue-disc
একবার আপনার কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হলে সে যা খুশী করতে পারে আপনার কম্পিউটারকে নিয়ে! উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কিছু ভাইরাস অটোমেটিক rootkit নামে এক ধরণের সফটওয়্যার ইন্সটল করে তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। অনেক ধরণের ট্রোজান ভাইরাস open the floodgates নামক আজব এক সংকেত দেবে আপনাকে।
কাজেই আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে ভাইরাসটি আসলেই দূর হয়েছে কীনা। আপনি একটি মাত্র এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করিয়েই নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন না। আপনার উচিত হবে বেশ কয়েকটি এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করা, ব্যাপারটা বেশ ঝামেলার মনে হলেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্যই এটি করতে হবে। এজন্যে যে কাজটি করতে পারেন, যে ফাইলগুলো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলো সেগুলো VirusTotal ওয়েবসাইটে আপলোড করে স্ক্যান করিয়ে নিতে পারেন, এটি Google স্বীকৃত ওয়েবসাইট। এখানে আপনি সর্বোচ্চ ৬৪ মেগার ফাইল আপলোড করতে পারবেন।
তবে সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি উপযুক্ত ব্যাকাপ রেখে নতুন করে উইন্ডোজ ইন্সটলের সময় পুরো পিসি ফরম্যাট করে ফেলেন!
খুঁজে বের করুন ভাইরাসটি কীভাবে এসেছিলোঃ
আপনার কম্পিউটারটিকে ভাইরাসমুক্ত করার পর আপনার কাজ হবে আপনার কম্পিউটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি ঘটানো। আপনি যদি পূর্বে এন্টিভাইরাস ব্যবহার না করে থাকেন, তাহলে এবার এন্টিভাইরাস চালু করুন। উইন্ডোজে ডিফল্টভাবে Windows Defender নামে একটি এন্টি ভাইরাস দেয়া আছে যার কার্যকারিতা খুবই দূর্বল। আপনি যদি ফ্রি ব্যবহার করতে চান তবে avast আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো এন্টিভাইরাস। আর কিনে ব্যবহার করতে চাইলে eset, kasparsky ব্যবহার করতে পারেন।
জাভা ব্যবহার করছেন? জাভা কম্পিউটারের নিরাপত্তার সবচেয়ে দূর্বল দিক। যদি একান্তই জাভা ব্যবহার করতে চান তবে ব্রাউজারের জাভা প্লাগিন্সটা বন্ধ রাখুন। এছাড়াও ব্রাউজারের আরও অন্যান্য প্লাগিন্স চেক করে দেখুন কোনোটি পুরোনো হয়ে গেছে কীনা, তাহলে আপডেট করে ফেলুন।
আপনার অপারেটিং সিস্টেম এবং ওয়েব ব্রাউজার প্রতিনিয়ত আপডেট রাখুন।
যেকোনো সফটওয়্যার শুধু একটার পর একটা ক্লিক দিয়ে ইন্সটল করে ফেলবেন না। প্রতিবার ক্লিকের সময় একটু কষ্ট করে পড়ে দেখুন আপনি ঠিক কি ইন্সটল করছেন। পাইরেটেড সফটওয়্যার এড়িয়ে চলুন। আপনার মেইলের স্প্যাম বক্সে আসা কোনো ফাইল খুলতে যাবেন না, চোখ বন্ধ করে ডিলিট করে ফেলুন!
আপনার কম্পিউটারের পোর্টে যেকারো পেন ড্রাইভ প্রবেশ করাবেন না। পেন ড্রাইভ খোলার আগে অবশ্যই এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করিয়ে নেবেন।
আপনি যদি খুঁজে বের করতে পারলেন না যে ভাইরাসটি কীভাবে এসেছিলো, কারণ সবই ঠিকঠাক লাগছে আপনার কাছে, তাহলে আর বেশী কিছু করার নেই। শুধু সতর্কতা আর একটু বাড়াতে হবে।
Md. Ripon Khan


No comments:
Post a Comment